1. iamparves@gmail.com : admin :
  2. hdtariful@gmail.com : tariful Rumon : tariful Rumon
  3. janathatv19@gmail.com : Shohag Khan : Shohag Khan
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

মুসলিম মনীষীদের মায়েরা

সাইফুল ইসলাম তাওহিদ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

মানব সভ্যতা বিনির্মাণে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সভ্যতার উন্নয়নে মানবজাতির পদচারণে পুরুষের পাশাপাশি আছে নারীরও শাশ্বত অবদান। তাই আদর্শ সমাজ ও জাতি গঠনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও অগ্রণী ভূমিকা থাকা জরুরি। একজন সভ্য নারী একটি শিক্ষিত প্রজন্ম উপহার দিতে পারে। তাই মুসলিম ইতিহাসের মহামনীষীদের বেড়ে ওঠার পেছনে মায়েদের সর্বাধিক ভূমিকা ছিল। যুগে যুগে মুসলিম মনীষীদের মায়ের ভূমিকা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

সুফিয়ান সাওরি (রহ.)-এর মা : সুফিয়ান সাওরি একজন জগদ্বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ। ব্যক্তিত্ব গঠনের পেছনে তাঁর মায়ের অবদান ছিল। মা তাঁর লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘আমি ইলম অর্জন করতে গিয়ে তীব্র অর্থ সংকটে পড়ি। সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। এরপর মা আমাকে বলল, হে আমার বৎস! তুমি ইলম অর্জন করো, আমি তোমার খরচের দায়িত্ব নিলাম। কাপড় সেলাই করে আমি তোমার খরচ সরবরাহ করব।’

মালেক ইবনে আনাস (রহ.)-এর মা : মালেক ইবনে আনাস (রহ.)-এর মায়ের ব্যাপারে ইবনে আবু উওয়াইস বলেন, ‘আমার মামা মালেক ইবনে আনাস বলেন, ছোটবেলায় মা আমাকে সাজিয়ে দিতেন। সুন্দর কাপড় পরাতেন। মাথায় পাগড়ি বেঁধে দিতেন। ইলম শেখার জন্য আমাকে মা রাবিয়া ইবনে আবু আবদুর রহমানের দরবারে পাঠাতেন। আর বলতেন, হে বৎস! রাবিয়ার দরবারে যাও। তাঁর থেকে হাদিস ও ফিকহ শেখার আগে তাঁর কাছে শিষ্টাচার শেখো।’

ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মা : জন্মের দুই বছর পর ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মা তাঁকে নিয়ে গাজা থেকে মক্কায় চলে আসেন। সাত বছর বয়সে তাঁকে কোরআন শিক্ষা দেন। বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিখতে মা তাঁকে আরবের বেদুইন গ্রামে পাঠান। এরপর মা তাঁকে তীর নিক্ষেপ ও অশ্ববিদ্যা শিক্ষা দেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) নিজ মা সম্পর্কে বলেন, ‘আমার মা আমার বেড়ে ওঠার তত্ত্বাবধান করেন। শিক্ষকের বেতন দেওয়ার সামর্থ্যও মায়ের ছিল না। মক্তবে পড়তাম আর শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদের পড়াতাম। সাত বছরে কোরআন হিফজ করি। ১০ বছর বয়সে ‘মুওয়াত্তা’ হাদিস গ্রন্থ মুখস্থ করি। অতঃপর মসজিদে বড় আলেমদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করি। কিন্তু তখন লেখার জন্য কাগজ কেনার সামর্থ্যও আমাদের ছিল না। হাড্ডি বা সরকারি পরিত্যক্ত কাগজে লিখতাম। একদিন মাকে আমি বললাম, ‘মা! আমি এখন ইলমের জন্য বিনয় ও শিক্ষকের কাছে শিষ্টাচারী হওয়া শিখেছি।’ মায়ের নিবিড় পরিচর্যা ও পরিশ্রমের ফলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি পান।

ইমাম বুখারি (রহ.)-এর মা : ইমাম বুখারি শৈশবেই বাবাকে হারান। তাঁর মা ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু ও  দ্বিনদার। মায়ের তত্ত্বাবধানে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন। ঐতিহাসিকরা বলেন, শৈশবে ইমাম বুখারি (রহ.) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তাঁর মা আল্লাহর কাছে অনবরত দোয়ার ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। ১৬ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে হজ করেন।

ইবনে তায়মিয়া (রহ.)-এর মা : শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের অন্যতম। মায়ের নিবিড় পরিচর্যা ও নির্দেশনায় ইতিহাসের পাতায় তিনি চিরস্মরণীয়। ইতিহাসে তিনি শায়খুল ইসলাম নামে পরিচিত। সিত্তুন নাইম বিনতে আবদুর রহমান ছিলেন তাঁর মা। মা তাঁকে এক চিঠিতে লেখেন, ‘ইসলাম ও মুসলিমদের সেবার জন্য আমি তোমাকে তিলে তিলে গড়েছি। তোমাকে দ্বিন শিক্ষা দিয়েছি। আমার কাছে থাকার চেয়ে তুমি দেশ-বিদেশে সফর করে ইসলাম ও মুসলিমের সেবা করো। এটাই আমার কামনা। তুমি দ্বিনের সেবা করলে তোমার প্রতি আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। কিন্তু তুমি ইসলাম ও মুসলিমদের সেবা না করলে আল্লাহর কাছে আমি তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করব।’

মুহাম্মদ আল ফাতিহ (রহ.)-এর মা : মুহাম্মদ আল ফাতিহ (রহ.) কনস্টান্টিনোপলের বিজেতা। রাসুল (সা.)-এর সুসংবাদপ্রাপ্ত সেনাপতি। শৈশবে ফজরের সময় মা তাঁকে ঘুম থেকে তুলে কনস্টান্টিনোপলের দেয়াল দেখিয়ে বলতেন, হে মুহাম্মদ! একদিন তুমি এই অঞ্চল জয় করবে। রাসুল (সা.) তোমার সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন। তুমিই হবে রাসুল (সা.)-এর সুসংবাদপ্রাপ্ত আমির। তখন তিনি প্রশ্ন করেন, এত বড় অঞ্চল কিভাবে আমি জয় করব? তার মা উত্তরে বলেন, কোরআন, ক্ষমতা, অস্ত্র এবং মানুষের ভালোবাসা দিয়ে তা জয় করবে। মা তাঁকে শুধু আশা দেখিয়ে থেমে যাননি, বরং তাঁকে যোগ্যতর করে গড়ে তুলেছেন। অন্তরে রোপণ করেছেন কোরআন ও মানবতার ভালোবাসা। তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ধৈর্য ও অবিচলতা।

বদিউজ্জমান সাইদ নুরসি (রহ.)-এর মা : বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সংস্কারক বদিউজ্জমান সাইদ নুরসি। তাঁর জীবন ও ব্যক্তিত্ব গঠনে তাঁর মায়ের অবদান ছিল। মায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাঁর মা কখনো সন্তানকে অজু ছাড়া দুধ পান করাতেন না।’ নুরসি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি মায়ের কাছে জীবনের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করি। তা আমার হৃদয়জুড়ে গেঁথে আছে। চিন্তার প্রতিটি শাখায় মিশে আছে আমার মায়ের দেওয়া শিক্ষা। ৮০ বছর বয়সে জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও মায়ের শিক্ষা আমাকে পথ দেখায়।’

আহমদ শাহ আবদালির মা : আহমদ শাহ আবদালির মা ছিলেন জরগুনা খাতুন। আহমদ শাহ আবদালিকে আধুনিক আফগানিস্তানের জনক মনে হয়। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মায়ের কাছে তাঁর কনিষ্ঠ ভাইয়ের পরাজয় ও বন্দি হওয়ার খবর আসে। তখন আবদালিকে মা বলেন, ‘অসম্ভব, আমার ছেলে পরাজিত ও বন্দি হতে পারে না। হয় সে গাজি হবে, না হয় শহীদ হবে। কেননা আমি তোমাদের দুই ভাইকে কখনো অজু ছাড়া বুকের দুধ পান করাইনি।’ অবশেষে জরগুনা খাতুনের ধারণা সত্য হয়। দুই ভাই বিজয়ী হয়ে ফেরেন।

(ইসলামিক স্টোরি ডটকম অবলম্বনে)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:৪২
  • ১২:৪৫
  • ৪:৫১
  • ৬:৩৩
  • ৭:৪৭
  • ৬:৫৪