1. iamparves@gmail.com : admin :
  2. najmulhasan7741@gmail.com : Najmul Hasan : Najmul Hasan
  3. janathatv19@gmail.com : Shohag Khan : Shohag Khan
  4. ranaria666666@gmail.com : Sohel Rana : Sohel Rana
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

অদ্ভুত আঁধার এক

শফিক হাসান
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

অনেক আগেই অদ্ভুত আঁধার এক দেখেছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। কালপরিক্রমায় আঁধার গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়েছে। আঁধারে ডুবে যাচ্ছে সভ্যতা, অদৃশ্য হচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার সোপান। আঁধার পেরিয়ে আলোতে যাওয়ার প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের থাকলে নানাবিধ বাধা, অপশক্তির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারে না সাধারণ মানুষ। ফলে বাধ্য হয়ে সহাবস্থান করতে হয় আঁধারের প্রাণীদের সঙ্গেই। এ আঁধার কতটুকু গাঢ়, কত আলো লাগবে আঁধার বিতাড়িত করতে— এখানটায় এসে থমকাতে হবে একটু। যেসব চিত্র গণমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে তা খণ্ডচিত্র মাত্র। প্রকৃতপক্ষে সারা দেশে সংঘটিত অনাচার, অপরাধের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

পেশীশক্তির ভয়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকিতে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই চেপে যান অনেক কিছু। হজম না করেও উপায় নেই। ক্ষমতার সঙ্গে, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় লালিত যারা তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা মুশকিল। সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল যে পুলিশ, সেখানেও মেলে না প্রতিকার। পুলিশবাহিনী রাজনৈতিক নেতা ও তাদের চ্যালাচামুণ্ডাদের পক্ষে থাকে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও দেখেও দেখে না। জেগে ঘুমানোর মতো ‘আসামি খোঁজা’ চলতেই থাকে। আসামি যখন আরও বড় অপরাধে দেশজুড়ে আলোচিত হয়, তখনই পুলিশ মাঠে নামে, খুঁজেও পায় আসামিকে! 

বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, অনেকেই একত্রে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, তার আগ পর্যন্ত সব স্বাভাবিক। অন্ধকারের মানুষ দাপিয়ে বেড়ায় জনপদ থেকে রাজপথ। দলের নাম ভাঙিয়ে সব অপকর্মই জায়েজ করে নেয়। যদিও দলের আদর্শ ধারণ কিংবা ব্যক্তিজীবনে নীতি-নৈতিকতার চর্চা কোনোটাই তাদের নেই। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যুবলীগের বিদায়ী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর কথা। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানকালে এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অর্থাৎ তার আগ পর্যন্ত কোনো অপরাধ নেই। সহযোগী সংগঠনের প্রধান হিসেবে তারও কোনো দায় নেই নেতাকর্মীদের সতর্ক করার। সমীকরণটা হচ্ছে— যা করার করো, ধরা পড়ো না শুধু! ‘মানসিকতা’ যদি এমন হয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, রাহাজানি বাড়বে না কেন? কীভাবেই-বা মিলবে স্বস্তির পরিসর।

পাহাড় পরিমাণ যে সমস্যা, তার সমাধান খুব বেশি দূরে নয়। ক্ষমতার প্রভাব-বলয়, অনৈতিকতার চর্চা থেকে বেরিয়ে নৈতিকতার চাষাবাদ করলে অনেকটা কাটিয়ে ওঠা অন্ধকার। শান্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে। স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) পর্যন্ত ক্ষমতাচর্চা ঘুরপাক খায়। এরা পক্ষান্তরে অধিকাংশ অপরাধের পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষক। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছোট-বড় যে কোনো অপরাধের সুরাহাকল্পে মামলা কিংবা সালিশ বাঞ্ছনীয়। সেখানে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যকেই করতে হবে পরোক্ষ আসামি। যে কোনো অন্যায় অপকর্মের তারাও জবাবদিহি করতে বাধ্য হলে প্রেক্ষাপট অবশ্যই পাল্টাতে বাধ্য। প্রতিপক্ষকে দমন, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখা, দখলি স্বত্ব বজায় রাখা, সন্ত্রাস, হানাহানি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে হেন অপরাধ নেই যাতে এমপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন নেই। সবাই যে এমন তা নয়, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাদেরও কাঠগড়ায় তোলা হলে সম্মান বাঁচানোর জন্য হলেও চেষ্টা করবেন সংযত আচরণ করতে। গুণ্ডা পাণ্ডা পোষায় মনোযোগ সরিয়ে আনতে।

জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। টপ টু বটম কেউ যেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে না থাকেন। আইনের চোখে যদি সবাই সমান হন তবে ‘বিশেষ ব্যক্তি’ কিংবা ‘ভিআইপি’ বলে কিছু থাকা অনুচিত। সুশাসনের আরেকটি প্রতিবন্ধকতা পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার। পুলিশ যখন ছাত্রলীগ, স্থানীয় নেতা কিংবা এমপি দ্বারা প্রভাবিত হয় তার পক্ষে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব। পুলিশ মানুষের বন্ধু এটা থেকে যায় কথার কথা হিসেবেই। বরং সত্যিকারের স্লোগান দাঁড়ায়— পুলিশ অপরাধীর বন্ধু, অপরাজনীতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে যে নারকীয় কায়দায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, এ ভিডিওচিত্র যে-ই দেখবেÑ অসুস্থ না হয়ে পারবে না। এভাবেও নির্যাতন করা যায়, নিজেদের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করে সেটা আবার প্রচারও করা যায়, নৈতিকতার কতটা অধঃপতন হলে মানুষ (!) এমন কাজ করতে পারে। স্থানীয় এমপি এমন দায় এড়াতে পারেন। ‘নোয়াখালীতে শুধু দেলোয়ার বাহিনী নয়, আরও বাহিনী আছে’ বক্তব্য যারা দেন তারা আসলে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিদ্যমান অতল গহ্বরকেই মূর্ত করে তোলেন। এত ‘বাহিনী’ কেন থাকবে, বাহিনী কেন সাধারণের সুখ-স্বস্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে! এমপিরা যেসব বাহিনী পোষেন তাতে তারা সুবিধা পেলেও সাধারণ মানুষের জীবন পড়ে হুমকিতে। আধিপত্য ধরে রাখার মাধ্যমে তারা যতটুকু সুবিধা পান তারচেয়ে ঢের বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

দেশে যেন ধর্ষণের মচ্ছব চলছে! সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের ধর্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের ঘটনা প্রায়ই আলোচিত হচ্ছে প্রচারমাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত আইটেম হিসেবে ধর্ষণ যেন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে! নোয়াখালীর মধ্যযুগীয় নৃশংসতায় যাদের নাম বেরিয়ে এসেছে তারাও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করছে। ফেসবুক প্রোফাইলে দেলোয়ার নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ঘোষণা দিয়েছে সে; অথচ বঙ্গবন্ধু শব্দটা লিখেছে ভুল বানানে। যারা বঙ্গবন্ধুকে ‘বঈবন্ধু’ লেখে, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগানও লেখে এদের হাতেই আওয়ামী লীগের পতাকা!

ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান একবার দুঃখ করে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কতজন পড়েছে এসব বই! ছাত্রলীগ, যুবলীগ থেকে শুরু আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর ঠিক কতজন কর্মী বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী ও অন্য দুটি বই পড়েছেন! বঙ্গবন্ধু আদর্শ কেউ যদি মনেপ্রাণে ধারণ করে, তার পক্ষে বিপথে যাওয়া কীভাবে সম্ভব! জীবনভর বঙ্গবন্ধু জেল-জুলুম সহ্য করে যে বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেলেন, তার এমন হত-ছিন্ন চেহারা কেন হবে! কেন ধর্ষক-নিপীড়ন বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে তাকে অপমান করবে!

বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আরও বড় অপরাধের জন্ম দেয়। মামলার দীর্ঘসূত্রতা, আসামিদের গায়ে বাতাস লাগিয়ে মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানো কিংবা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও তাণ্ডব চালানো— সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বিচার ত্বরান্বিত করতে পারলে অপরাধ কমানো যেত। সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষুর ভয় কাতর হতে হতো না বাদীপক্ষকে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ। এখানেও দেখা গেছে উল্টো চিত্র। পুলিশ প্রতিবাদকারীদের নিরস্ত করার চেষ্টা করছে, সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। অথচ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে শান্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হতো না।

ধর্ষণের ঘটনায় কবি নির্মলেন্দু গুণ ক্রসফায়ার দাবি করলেও পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। সুশীল সমাজের বড় অংশ কবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। শেষপর্যন্ত নির্মলেন্দু গুণ নিজ অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। দিয়েছেন পাল্টা পরামর্শ।

ক্রসফায়ারকে কেন সাধারণ মানুষ সমর্থন করছে, কেনইবা এর এত ‘জনপ্রিয়তা’? এর পেছনেও দায়ী অবিচারের সংস্কৃতিই। স্বাভাবিক পন্থায় দোষীদের বিচার হয় না, আইনের ফাঁক গলে তারা ঠিকই বেরিয়ে আসে কিংবা জেলখানায় বসেই ভোগ করে বাইরের সুবিধা। অন্যদিকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ ক্রসফায়ারে কোনো আসামি মারা গেলে সেটাকেই মানুষ ‘বিচার’ মনে করছে। যে কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হলে আনন্দে অতীতে মিষ্টি বিতরণ করেছে সাধারণ মানুষ। কালা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর কারওয়ান বাজারে ফিরেছে স্বস্তি। যে কারণে ব্যবসায়ীরা মিষ্টিমুখ করিয়েছে পরস্পরকে। অথচ এক কালা জাহাঙ্গীর যায়, দ্বিগুণ কালা জাহাঙ্গীর সৃষ্টি হয়। ক্রসফায়ারের ভয়ে অপরাধকর্ম থেকে সরে এসেছে এমন নজির খুব একটা নেই। আইনের শাসন থাকলে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হতো না, সাধারণ মানুষকে সমর্থন করতে হতো না অসুস্থ প্রক্রিয়াকে। বর্তমানে ক্রসফায়ারবিরোধী অবস্থান নিয়ে তাত্ত্বিক কথা জুড়ছেন যারা, সম্ভবত এদের অধিকাংশের মাথায় নেই বিদ্যমান বাস্তবতার কথা। অপরাধীর পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের যতদিন পর্যন্ত নিরস্ত করা যাবে, আইনের আওতায় আনা যাবে না— এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এক ‘উত্তেজনা’ আসবে, আরও বড় ঘটার মাধ্যমে মিলিয়ে দেবে সেই ‘উত্তেজনা’কে!

আইন বরাবরই ধনাঢ্য ব্যক্তির দিকেই ঝুঁকে থেকেছে, সুরক্ষা দিয়েছে তাদের। ব্যক্তিভেদে সংবাদও কীভাবে পাল্টে যায় এমন একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছিল উন্মাদ স্যাটায়ার ম্যাগাজিনে। ব্যক্তি যদি প্রভাবশালী হন সংবাদ হবে— পুলিশ জনাব মোসলেমকে লাঞ্ছিত করেছে। অন্যদিকে ব্যক্তির সামাজিক প্রতিপত্তি না থাকলে বলা হবে— পুলিশ মুসলিম্যারে পিডাই আড্ডিগুড্ডি ভাঙি দিছে!

বর্তমানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধসহ নানাভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের ব্যানার বিকৃত করার কুপ্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। যে কোনো আন্দোলনে বরাবরই থাকে তৃতীয় পক্ষ। যারা ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে চায়। সরকার পতনের, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়াচ্ছে এরা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবাদের ছলে যেন তৃতীয় পক্ষ ঢুকতে না পারে, সুযোগসন্ধানীদের চিনে রাখা, শনাক্ত করা জরুরি। সতর্ক থাকতে হবে গুজব থেকেও।

ধর্ষণ এখন ঘরে বাইরে। বাবা কর্তৃক কন্যা ধর্ষণ, মামা কর্তৃক ভাগনি ধর্ষণ, দুলাভাই কর্তৃক শ্যালিকা ধর্ষণ, প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকা ধর্ষণ…। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী (ছেলে-মেয়ে) ধর্ষণ ঘটনা পুরনো। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের প্রলোভন দেখিয়েও কখনো কখনো ধর্ষণ করা হয় শিক্ষার্থীদের। শুধু স্কুল নয়, মাদ্রাসায়ও দেখা দিয়েছে ধর্ষণের মচ্ছব। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে মাঝে-মধ্যে উঠছে এমন অভিযোগ। তবে কোথায় স্বস্তি পাবে কোমলমতি একজন শিক্ষার্থী? ঘরে-বাইরে কোনো জায়গাই নারীর জন্য নিরাপদ নয়। সামাজিকতা, লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই ধর্ষণের ঘটনা চেপে যান। লুকোচাপার কারণে ধর্ষক হয় আরও বেপরোয়া। অনুসন্ধান করে নতুন অপকর্মের। অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা যদি প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন, ধর্ষিতা নারীর নিরাপত্তার কথা ভেবে খুলে দিতেন ধর্ষকের মুখোশ— পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উত্তরণ ঘটত। অন্যায়কারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমেও মিলতে পারে সুফল।

প্রতিদিন একাধিক ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় প্রচারমাধ্যমে। গতকাল দুপুরে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনের প্রতিবেদনে বলা হয়— কুমিল্লার লাকসামে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম (২৩) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সালেহপুরে কোরবান আলী দারুল ফোরকান নুরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাশেদুল ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুপার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা। নেত্রকোণার কলমাকান্দায় শিশুকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের দক্ষিণ রাণীগাঁও গ্রামে। অভিযুক্ত কামাল মিয়া (৪২) ওই এলাকার কাজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় মুদি ব্যবসায়ী।

এভাবে বলা ঠিক নয়; তবুও আশঙ্কা প্রকাশ না করে পারা যাচ্ছে না। দেশে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সংবাদপত্র রয়েছে। ধর্ষণের তাণ্ডব থামানো না গেলে অচিরেই হয় ‘দৈনিক ধর্ষণ’ নামে কোনো পত্রিকা আত্মপ্রকাশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। যেখানে শুধু ধর্ষণের খবর থাকবে। ওই কষ্টকল্পনার আগ পর্যন্ত অবশ্যই শোধরাতে হবে নিজেদের। সরকার, প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে পরিবেশ বাসযোগ্য রাখার স্বার্থে। সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত যে দেশ, সেখানে কেন নেতিবাচক সংবাদে শিরোনাম হবে!

শফিক হাসান : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক
shafique_hasan79@yahoo.com

সংগ্রহে: খোলা কাগজ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৬
  • ১২:৩১
  • ৫:০৭
  • ৭:১৯
  • ৮:৪৫
  • ৫:৪০