আওয়ামী লীগের প্রভাব কাটিয়ে শুণ্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া গণভবনের কেয়ার টেকার আব্দুর রহমান শেখ ওরফে রমা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম একজন সাক্ষী হওয়ার সুবাদে আব্দুর রহমান শেখ আ’লীগ ও শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং ঘনিষ্ঠ একজন।
এই সম্পর্ককে পুজি করে ক্ষমতাশীন হয়ে ওঠেন আব্দুর রহমান শেখ। শেখ হাসিনার দাপট কাটিয়ে তদবির, টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করতেন তিনি।
জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবিরবাজ সিন্ডিকেটের একজন ছিলেন তিনি। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, জায়গা-জমি দখল, দখলমুক্ত করাসহ নানা ধরনের কাজ করে দিতেন নির্ধারিত টাকার চুক্তিতে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি, দলীয় পদ-পদবী বিক্রি, নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে নামে-বেনামে করেছেন একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর কাজীপাড়ার ৬০ ফিটে ফ্ল্যাট, মিরপুর-১৩ নাম্বারের রাফিন সিটিতে প্লট, কেরানীগঞ্জে প্লট, রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়াতে বাংলো বাড়ি ও দোকান, মিরপুর ১৪তে একটি দোকান রয়েছে তার।
কক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের জন্য কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার জমি। এসব সম্পত্তির মালিকানা করেছেন তার স্ত্রী ফুরিয়া রহমানের নামে।
গোপালগঞ্জের টুংগিপাড়ায় এবং শ্রীরামকান্দি গ্রামে রয়েছে তার স্ত্রী নামে কয়েকশ বিঘা জমি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুর রহমান শেখের স্ত্রী ফুরিয়া রহমানের নামে মিরপুর-১ সোনালী ব্যাংক এবং ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি ব্যাংকের একাউন্ট রয়েছে। এ দুটি ব্যাংক একাউন্টে আব্দুর রহমানের অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা জমা ও লেনদেন করা হতো।
সরকার দলের প্রভাব কাটিয়ে বিটিআরসি আগারগাঁও অফিসে চাকরি দিয়েছেন তার মেয়ে রাবেয়া সুলতানাকে।
এক আওয়ামী নেতার তদবিরে চাকরি পাওয়ার কিছুদিন পরই রাবেয় সুলতানা পেয়ে যান ধানমন্ডির সোবহানবাগে বিটিআরসির স্টাফ কোয়াটারে সুবিশাল ফ্ল্যাট। যদিও তিনি এই ফ্ল্যাটে নিজে না থেকে অন্যত্র মাসে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলাবাগানে সরকারি কোয়াটারে ফ্ল্যাট দখল করে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন আবদুর রহমান শেখ।
আব্দুর রহমান শেখের অবৈধ টাকায় তার মেয়ে রাবেয়া সুলতানা ওরফে মৌ শেখ কিছুদিন আগে একটি (মেট্রো-খ ১২ ৫৫-২৯) গাড়ি কিনেছেন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
একই ভাবে শেখ হাসিনার সাথে সুসম্পর্ককে পুঁজি করে দল ও সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে চাকরি দিয়েছেন তার ছেলে ইমন আহমেদকে।
আব্দুর রহমান শেখের ছেলে মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার কলাবাগানের বাসায় স্টক থাকা মদের বোতলের একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অবৈধ পথে অর্জিত টাকায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্যালক-ভাগনেসহ আত্মীয়-স্বজনদের। তার আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ সবাইকেই দিয়েছেন সরকারি চাকুরি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একদফা দাবির মুখে গত ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকার পতনের পর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাসহ দলীয় নেতারা অনেকেই বিদেশ পালিয়েছেন। যারা পালাতে পারেননি তারা দেশের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছেন।
আওয়ামী স্বৈরশাসনের কালে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে বেশ আলোচিত ছিলেন আব্দুর রহমান শেখ। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে জনরোষ থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন তিনি।
আবার বলা হচ্ছে বিদেশ পালাতে ব্যর্থ হয়ে দেশেই আত্মগোপন করেছেন তিনি, বিদেশ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply