1. iamparves@gmail.com : admin :
  2. najmulhasan7741@gmail.com : Najmul Hasan : Najmul Hasan
  3. janathatv19@gmail.com : Shohag Khan : Shohag Khan
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

তিন’শ ষাট আউলিয়ার বিবরন

অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০
১। শাহজাদা শেখ আলী ইয়ামেনী
ইনি ইয়ামেনের রাজপুত্র ও শাহজালালের অতিপ্রিয় সহচর ছিলেন।  তিনি ইয়ামেনের সুলতান ওমর আশরাফের পুত্র। তিনি  ইয়ামেনের  রাজ-সিংহাসনের মায়া পরিত্যাগ করে শাহজালালের  অনুগামী হন। তিনি চিরকুমার অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি হজরত শাহজালালের সমাধির ঠিক দক্ষিনপূর্ব পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। 
২। হাজী ইউসুফ
তিনি শাহজালালের ঘনিষ্ঠ অনুচর। হজরতের নির্দেশে বিবাহ করেন ও তদীয় বংশধরগন পবিত্র দরগার খাদেম নিযুক্ত হন। বর্তমান “সরেকওম” পরিবার তাঁর বংশধর এবং এই পরিবার হতে পুরুষানুক্রমে দরগার মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন। শাহজালালের সমাধির ঠিক দক্ষিনপার্শ্বে চার কবরের সর্বপূর্বের সমাধিতে তিনি সমাহিত আছেন।
৩। হাজী দরিয়া
হজরতের সমাধির ঠিক দক্ষিনের চার কবরের মধ্যে হাজী ইউসুফের ঠিক পশ্চিমে তিনি শায়িত আছেন। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৪। হাজী খলিল
হজরতের সমাধির ঠিক দক্ষিনের চার কবরের মধ্যে হাজী দরিয়ার পশ্চিমে তিনি শায়িত আছেন। তাঁহারও কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৫। সৈয়দ আহমদ কবির
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের পাঠানটোলা মহল্লায় অবস্থিত।
৬। আহমদ নিশান বরদার
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের মজুমদারীর খাসদবির মহল্লায় অবস্থিত।   
৭। আরিফ মুলতানী
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের পুরানলেন মহল্লায় অবস্থিত।
৮। সৈয়দ আহমদ
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের রায়নগর মহল্লায় অবস্থিত।
৯। শেখ আব্দুল্লাহ
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের নাইওরপুল মহল্লায় অবস্থিত।
১০। কাজী ইলিয়াস উদ্দিন ওরফে কাজী গয়লা
তাঁহার মাজার কাজীটোলা, কসবে সিলেটে অবস্থিত। তাঁহারও কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না। তাহার বাসস্থান কাজী ইলিয়াস মহল্লায় ছিল। “সুহলে ইয়ামেনী” গ্রন্থে তাঁর নামের উল্লেখ নেই।
১১। সৈয়দ হামজা
তাঁহার বংশধরগন ঝর্নারপার টিলার উপর নামক স্থানে বসবাস করছেন। তাঁহার বংশের কিছুলোক মোমেনশাহীর সিকন্দর নগরে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তাহার মাজার ঝর্নারপার টিলার উপর অবস্থিত।
১২। সৈয়দ উমর সমরকন্দী
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের উমর সমরকন্দ মহল্লায়, ওসমানী জাদুঘরের সামনে অবস্থিত। তাঁহার বংশের কিছু লোক এখনও ঐ স্থানে বসবাস করছেন ও কতিপয় লোক ওসমানীনগর উপজেলার গওহরপুর পরগনার তাহিরপুর চলে গেছেন।
১৩। শেখ খিজির
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের বারুদখানা মহল্লায় অবস্থিত।
১৪। খান্ডা ঝকমক
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। তাঁর মাজার সিলেট শহরের রায়নগর মহল্লায় অবস্থিত।
১৫। হাজী গাজী
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের ঈদগাহ ময়দানের পূর্বদিকে অবস্থিত।
১৬। শায়খ চাষনী  পীর
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। তাঁহার মাজার সিলেট শহরের গোয়াইপাড়া মহল্লায় এক সুউচ্চ টিলার উপর অবস্থিত। তাহার কোন বংশধর নাই। তিনি শাহজালালের আদেশে আরবের মাটির সাথে সিলেটের মৃত্তিকা পরীক্ষা করেন। তাঁর মাযারে অজস্র বানর বিচরন করে থাকে জেয়ারতকারীরা এই বানরদেরকে সম্মান করেন ও খাদ্য বিতরন করে থাকেন।
১৭। শেখ জগাই
তাঁহার মাজারও সিলেট শহরের গোয়াইপাড়া মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
১৮। হাফিজ মোহাম্মদ জাকারিয়া আরবী
হজরতের আরব হতে আগত প্রথম বারজন সঙ্গীর অন্যতম। তিনি সাহাবী হজরত উকেল কোরেশীর (রাঃ) বংশধর। হাফিজ মোহাম্মদ জাকারিয়া আরবীর মাজার কুশিয়ারা নদীর দক্ষিন তীরে নবীগঞ্জ উপজেলার পিঠুয়া মৌজায় অবস্থিত বলিয়া ধারনা করা হয়। স্থানীয় লোকেরা মাজারটিকে আরবী মাজার বলে অভিহিত করে থাকে। তাঁর কিছু বংশধর সিলেট শহরের রায়নগর মহল্লার মোখতার খাঁ কিরমানীতে ছিলেন। কিছু বংশধর দরগা মহল্লাতেও বসবাস করছেন। কেহ কেহ তাঁর মাজার অজ্ঞাতও বলেছেন।
১৯। কাজী জাহান ওরফে হজরত জাহান
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের জল্লারপার মহল্লায় অবস্থিত।
২০-২৪। সৈয়দ জিয়া উদ্দিন ও অন্যান্য চার পীর 
তাঁহাদের মাজার সিলেট শহরের পুরানলেন সরকারী বালিকা অগ্রগামী উচ্চবিদ্যালয়ের উত্তরে অবস্থিত। এখানে সৈয়দ জিয়াউদ্দিন সহ শাহজালালের মোঠ সঙ্গী পাঁচ শিষ্যের মাজার অবস্থিত বলে স্থানটি পাঁচপীরের মোকাম নামে পরিচিত।
২৫। শেখ আলী পীর
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের মজুমদারীর এক টিলায় অবস্থিত।
২৬। শাহ ফরিদ রওশন চেরাগ
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের দর্শনদেউড়ি এলাকায় সিলেট সুনামগজ্ঞ রোডের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত।
২৮। খাজা নসির উদ্দিন ওরফে শাহচট
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের কালিঘাটে সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের মসজিদের উত্তরে অবস্থিত। তিনি চিরকুমার অবস্থায় ইবাদত বন্দেগীতে কালাতিপাত করেন বলে ধারনা করা হয়।
২৯। নূরুল্লাহ ওরফে শাহনূর
তাঁর মাজার সিলেট শহরের বন্দরবাজার কাইরাপট্টির পূর্বদক্ষিন কোনে অবস্থিত। তাঁর কোন বংশধর নেই। জনরব আছে এই পীরের আজানে মনারার টিলায় গোবিন্দের রাজপ্রসাদ ভুতলশায়ী হয়।
৩০। পীর বুরহান উদ্দিন
তাঁর মাজার সিলেট শহরের কুশীঘাটে সুরমার উত্তরপারে তার বসতবাটিতে অবস্থিত। পাশে তার বেগমের কবর রয়েছে। রাজা গৌড়গোবিন্দ কতৃক নিহত তাঁর শিশুপুত্রটির কবরও পাশে রয়েছে। তাঁর শিশুপুত্রের হত্যাকান্ডের ফলে সিলেটে মুসলিম অভিযান সংঘটিত হয়।
৩১। মানিক পীর
তাঁহার ও তাঁর সঙ্গী ছোটপীরের মাজার সিলেট শহরের মানিক পীরের টিলার  চুড়ায় অবস্থিত। এই বিখ্যাত পীরদ্বয়ের কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৩২। মখদুম হবীব
তিনি ও তাঁর তিন সঙ্গীর মাজার সিলেট শহরের দপ্তরীপাড়ায় অবস্থিত।
৩৩। মোখতার শহীদ
তাঁর মাজার সিলেট শহরের মোখতার শহীদ মহল্লায় অবস্থিত। তাঁর কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৩৪। হাসান শহীদ
তাঁর মাজার সিলেট শহরের হাসান শহীদ মহল্লায় অবস্থিত। তাঁর কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৩৫। সৈয়দ আলাউদ্দিন
তিনি বাগদাদের অধিবাসী। সৈয়দ তাজউদ্দিন, সৈয়দ বাহাউদ্দিন, সৈয়দ রুকনউদ্দিন  নামে তার তিন পুত্র ছিল। তাহাদের মধ্যে তাজউদ্দিন আওরঙ্গপুর পরগনার গওহরপুর চলে, যান তথায় তার সমাধি বর্তমান। সৈয়দ বাহা উদ্দিন আওরঙ্গপুরের নিকটবর্তী সৈয়দপুরে কিছুদিন বাস করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরে চলে যান, সেখানে তার মাজার রয়েছে। আওরঙ্গপুরের সৈয়দ পরিবারসহ অনেকে তাঁর বংশধর দাবী করেন। “সুহলে ইয়ামেনী” গ্রন্থে তার নামের উল্লেখ নেই।
৩৬। শাহ আলাউদ্দিন
ইনি বালাগঞ্জ উপজেলার গওহরপুর পরগনার আলাপুর গ্রামে অবস্থান করেন ও তথায় তাঁর সমাধি বিদ্যমান। তাঁর মেয়ের বংশধরগন এখনও আলাপুরে বসবাস করছেন। তাঁর বংশে শাহআলী নামে এক দরবেশ বেশ বিখ্যাত ছিলেন। শাহ আলাউদ্দিনের পুত্রের বংশধারা ক্রমান্নয়ে লোপ পায়।
৩৭। খাজা আদিনা সুফি
তাঁর মাজার বিয়ানীবাজার উপজেলার চুড়খাইয়ের আদিনাবাদ গ্রামে অবস্থিত।
৩৮। সৈয়দ আফজল
তাঁর মাজার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর পরগনার মিরারগাঁওয়ে অবস্থিত। “সুহলে ইয়ামেনী” গ্রন্থে তাঁর নামের উল্লেখ নেই।
৩৯। খাজা আজিজ চিশতি
তাঁর মাজার বালাগঞ্জ উপজেলার গওহরপুরে অবস্থিত।
৪০। হাফিজ আতাউল্লাহ
তাঁহার মাজার মোখতারপুর পরগনার টিলাপাড়া মৌজায় অবস্থিত। তাঁর বংশধর বলে কেউ দাবী করে নাই।
৪১। শাহকালা ওরফে কালা মিয়া
ইনি ইরানের অধিবাসী ছিলেন। তাঁহার মাজার বালাগঞ্জ উপজেলার গওহরপুর পরগনার শিয়রখাল গ্রামে অবস্থিত। তথাকার চৌধুরীগন তাঁর বংশধর বলে দাবী করেন।
৪২। শাহ কামাল ইয়ামনী ওরফে শাহ পাহলোওয়ান
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর পরগনার মোকামদোয়ার গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত।
৪৩। সৈয়দ কুতুব উদ্দিন ওরফে সৈয়দ কুতুব
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোধরাইল পরগনার ডুঙ্গিগ্রামে তিনি অবস্থান করেন। তাঁহার বংশধরেরা জৈন্তার ধরগ্রামে চলে যান।
৪৪। গায়েবী পীর
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। শাহ আরপিনের নিকটে গায়বীর মোকামে তাঁর মাজার অবস্থিত।
৪৫। জালাল উদ্দিন ওরফে শাহজালাল
ওসমানী নগর উপজেলার কুরুয়া পরগনার খুশকীপুরে তাঁর সমাধি বিদ্যমান। কথিত আছে তিনি এক ব্রাক্ষনের খজ্ঞ কন্যাকে আরোগ্য করে বিয়ে করেন ও তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন।
৪৬। সৈয়দ জালাল উদ্দিন ওরফে সৈয়দ জালাল
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোধরাইল পরগনার ডুঙ্গিগ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত।
৪৭। শেখ জালাল ওরফে শাহ মিলন
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন।
৪৮। জওহর উদ্দিন ওরফে শাহ জওহর
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর পরগনার মোকামদোয়ার গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত।
৪৯। শাহ জুনায়েদ গুজরাটি
ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশনের নিকট তাঁর মাজার বিদ্যমান।
৫০। শাহ তকীউদ্দিন ওরফে মোহাম্মদ তকী
নিজ জালালপুর গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন।
৫১। শাহদাউদ কুরায়শী
আরব হতে আগত শাহজালালের প্রথম বারজন সঙ্গীর অন্যতম শাহ দাউদ কুরায়শী পবিত্র মক্কা নগরীর অধিবাসী ছিলেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রেঙ্গা পরগনার দাউদপুর গ্রামে স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র  রহিম দাউদ কুরায়শী সহ তাঁর পবিত্র মাজার শরীফ বিদ্যমান। দাউদপুরের সুবিখ্যাত চৌধুরী পরিবার তাঁরই বংশধর।
৫২। নিজাম উদ্দিন ওসমানী
তিনি ওসমানী নগর উপজেলার দয়ামীরে অবস্থান করেন। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গনী ওসমানী তাঁর বংশধর বলে পরিচিত।
৫৩। শাহ ফতেহ উদ্দিন
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিজ জালালপুর গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত।
৫৪। শেখ ফরিদ আনসারী
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজারের নিকট তাঁর সমাধি বিদ্যমান।
৫৫। বাবু দওলত
তাঁহার মাজার মৌলভী বাজার সদর উপজেলার ছনখাইড় পরগনার বিবি দওলত মৌজায় অবস্থিত। তাঁর বংশধর বলে কেউ দাবী করে নাই।
৫৬। শাহ মঈনউদ্দিন
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর পরগনার মোকামদোয়ার গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত।
৫৭। মাখদুম জাফর গজনবী
তিনি আফগানিস্থানের গজনীর অধিবাসী ছিলেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোধরাইল পরগনার মোহম্মদপুরে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন।
৫৮। শাহ সুলতান
বালাগঞ্জ উপজেলার ইনি গওহরপুর পরগনার সুলতানপুর গ্রামে অবস্থান করেন। সুলতানপুরের চৌধুরীগন তাঁরই বংশধর।
৫৯। শাহ সুলেমান করনী কুরায়শী
ওসমানী নগর উপজেলার করনশী গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তিনি ইয়ামেনের করন নামক স্থানের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর বংশধরেরা এখনও নিজ করনশী ও মুতিয়ার গ্রামে বসবাস করছেন।
৬০। শেখ সিকান্দর ওরফে শাহ সিকন্দর
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজারের নিকটবর্তী শাহ সিকন্দর গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন।
৬১। শাহ সিকন্দর
নবীগঞ্জ উপজেলার সিকন্দরপুর পরগনার পশ্চিমগাঁয়ে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন। উক্ত গ্রামের চৌধুরী পরিবার তাঁর বংশধর বলে দাবী করেন।
৬২। দাওর বখস খতীব
জগন্নাথপুর উপজেলার আতুয়াজান পরগনার দাওরাই মৌজায় তিনি বসবাস করেন। মাইল খানেক দক্ষিনে বড়কেচি গ্রামে তাঁহার মাজার অবস্থিত। তাঁর বংশধরেরা এখনও তথায় বসবাস করছেন। তাঁর মাযার সংলগ্ন একটি ঈদগাহ রয়েছে।
৬৩। শেখ খিজির খাসদবির
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের খাসদবির মহল্লায় অবস্থিত। তাঁর কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না।
৬৪। আবু তুরাব
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের বন্দরের চৌকের ঈশান কোনে অবস্থিত। তাঁহার প্রতিষ্টিত মসজিদ, পুকুর ও পাকা কুয়া এখনও তাঁর কীর্তি ঘোষনা করছে।
৬৫। বাগদার আলী শাহ
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের বারুদখানা মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৬৬। শাহ সুন্দর
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের পাঁচ মাইল উত্তরে দক্ষিনকাছ  মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় নাই।
৬৭। শাহ মদন
তাঁহার মাজার এম সি কলেজের সন্নিকটে টিলাগড়ে অবস্থিত। তাঁহারও কোন বংশধর নাই। তাঁর মাযারের পাশে একটি মসজিদ রয়েছে।
৬৮। শাহ এতিম
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। তাঁহার মাজার সিলেট শহরের শিবগঞ্জ বাদুর-লটকা  মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় নাই।
৬৯। শাহ পরান
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। শাহ পীরান নামটি লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে শাহপরানে পরিনত হয়েছে। সুপ্রাচীন ‘সুহলে ইয়ামন’ গ্রন্থে শাহজালালের সংগীদের ২৪০ জনের তালিকায় শাহপরানের নাম নেই, হয়তো এই তালিকায় ভিন্ন কোন নামে তিনি অবস্থানও করতে পারেন। তবে মোঃ নুরুল হকের  আল ইসলাহের ৩২২ জনের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। দক্ষিনকাছ পরগনার শাহপরান নামক স্থানে একটি টিলায় তাঁর মাজার অবস্থিত। লোকে তাঁহাকে শাহজালালের ভাগিনা মনে করে। তিনি চিরকুমার ছিলেন ও তাঁর সম্পর্কে অনেক অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। তাঁর মাযারের সন্নিকটে টিলার উপর একটি মসজিদ ও একটি ঈদগাহ রয়েছে। টিলার নীচে একটি পুকুর, একটি লঙ্গরখানা ও একটি মহিলা ইবাদতখানা রয়েছে।
৭০। গরম দেওয়ান
তাঁর প্রকৃত নাম পাওয়া যায়না। তাঁহার মাজার সিলেট শহরের রিকাবীবাজার ও শেখঘাটের মধ্যবর্তী রাস্তার পশ্চিম পাশে চন্দনীটুলা মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৭১। সৈয়দ আহমদ ওরফে দাদা পীর
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের মিরাবাজার মোখতারখাকী মহল্লায় সিলেট তামাবিল সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৭২। সৈয়দ আবুবকর
তাঁহার মাজার করিমগঞ্জ মহকুমার ছোটলেখা নামক মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা প্রকাশ পায়না।
৭৩। সুলতান সিকন্দর গাজী
তিনি সিলেটের দ্বিতীয় মুসলিম প্রশাসক ছিলেন। সুরমা নদীতে জলমগ্ন হয়ে তাঁর অকাল-মৃত্যু ঘটে। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় নাই।
৭৪। জিন্দাপীর
তাঁর প্রকৃত নাম জানা যায়না। তাঁহার মাজার সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় নাই। সিলেট শহরের গুরুত্বপূর্ব এলাকা জিন্দাবাজার তাঁর নামানুসারে হয়েছে।
৭৫। দেওয়ান ফতেহ মোহাম্মদ
তিনি শাহজালালের সিলেট আগমনের অল্পদিন পর সিলেট আসেন ও হজরতের শিষ্যভুক্ত হন। তাঁহার মাজার সিলেট শহরের শেখঘাট  মহল্লায় অবস্থিত। শেখঘাটের শেখগন তাঁহার বংশধর বলিয়া দাবী করেন।
৭৬। মধু সোদন
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের রিকাবিবাজারের পশ্চিমে অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় নাই।
৭৭। হজরত লাল
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের সদাগরটুলা মহল্লায় অবস্থিত।
৭৮। শাহ রফীউদ্দিন
এই পীরের মাজার ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাউড় পাহাড়ের ধারে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সারপিং নামক স্থানে অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৭৯। সৈয়দ মহব্বত
এই পীরের মাজার ফেন্ছুগঞ্জের মৌরাপুর পরগনায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায় না।
৮০। শাহ মালুম 
এই পীরের মাজার মৌরাপুর পরগনায় ফেন্ছুগঞ্জ রেল স্টেশনের পূর্বদিকে একটি টিলায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর আছেন কিনা জানা যায়না। সুপ্রাচীন সুহলে ইয়ামন গ্রন্থে শাহজালালের সংগীদের ২৪০ জনের তালিকায় শাহ মালুমের নাম নেই, তবে মোঃ নুরুল হকের  আল ইসলাহের ৩২২ জনের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
৮১। শাহ ফরঙ্গ ও ৮২। শাহ দরঙ্গ
এই পীরদ্বয়ের মাজার মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার মনুমুখ নামক স্থানের বেখামুরা মৌজায় অবস্থিত। বেখামুরার সৈয়দরা শাহ দরঙ্গের বংশধর বলে দাবী করেন।
৮৩। সৈয়দ লাল
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের কুয়ারপার মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৮৪। সৈয়দ জাহান
তাঁর মাজার সিলেট শহরের কুয়ারপার মসজিদের পাশে অবস্থিত। তাঁর কোন বংশধর নাই।
৮৫। শাহ সনজর
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের বারুদখানা মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৮৬। গোলাম হজরত
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের জল্লারপার মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৮৭। হজরত আমিন
তাঁহার মাজার সিলেট শহরের জল্লারপার মহল্লায় অবস্থিত। তাঁহার কোন বংশধর নাই।
৮৮। সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার
এই পুস্তকে তাঁর সম্পর্কে ইতিপূর্বে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি সিলেটে দীর্ঘ্যকাল অবস্থান করে অনেক বংশধর রেখে পরে রাষ্ট্রীয় কাজে বাঙ্গালার সাতগায় সেনাঘাঁটিতে ফিরে যান বলে অনুমিত হয় ও সেখানে তাঁর সমাধি রয়েছে। পীরমহল্লায় আক্কল কুয়ার পাশে তাঁর আশ্রম ছিল ও এখানে তাঁর অনেক বংশধরদের অনেক মাজার বিদ্যমান। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সৈয়দ নাসির উদ্দিনের বংশধারা ছড়িয়ে রয়েছে। তবে মূল শাখা এখনও পীর মহল্লায় বসবাস করছেন। কেহ কেহ মনে করেন তিনি সিলেটে মৃত্যুবরন করেন ও চৌকিদেখীতে তার লাশ গায়েব হয়ে যায়।
৮৯। হাজী শেখ শামস উদ্দিন বিহারী
সিলেটের পশ্চিমাঞ্চলের ভাটি এলাকা জগন্নাথপুর উপজেলার সুনাইতা পরগনার আটঘর গ্রামে তিনি আস্থানা স্থাপন করেন। তাঁর খননকৃত নয় বিঘা জমিতে বর্গাকারের দীঘিপারে তাঁকে ও পরবর্তীতে তাঁর পুত্রকে সমাহিত করা হয়। তাঁহাদের মাজার একটি ঘরের মধ্যে রয়েছে। তিনি তাঁর পায়ের চি‎হ্নযুক্ত যে পাতরের উপর নামাজ পড়তেন, তা এখনও রক্ষিত রয়েছে।
৯০। সৈয়দ ইউসূফ
তিনি ইরাক হতে শাহজালালের সঙ্গী হয়ে সিলেটে আসেন। সুনামগজ্ঞ জেলার ছাতক উপজিলার সিংচাপড় পরগনার সৈয়দের গাঁওয়ে তাঁর মাজার বিদ্যমান। তাঁর বংশধরগন এখনও সৈয়দের গাওয়ে অবস্থান করে ইসলামের খেদমত করছেন।
৯১। শাহ সদরুদ্দীন কুরায়শী
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পর্ব্বতপুর (সদরাবাদ) গ্রামে তাঁর মাজার অবস্থিত। সেখানকার কিছুলোক তাঁর বংশধর দাবী করেন।
৯২। খাজা বুরহান উদ্দিন কেতান
আরব হতে আগত শাহজালালের প্রথম বারজন সঙ্গীর অন্যতম ছিলেন খাজা বুরহান উদ্দিন কেতান। তাঁর পবিত্র মাজার শরীফ কোথায় জানা যায়না। খাজা ও কেতান দুইটি উপাধি তার নামের অগ্র ও পশ্চাতে সংযুক্ত। ফকিরি বা বৈরাগ্যে উচ্চ পারদর্শিতার জন্য তিনি কেতান উপাধিতে ভুষিত হন। শাহজালালের দরগার খাদেম  ঐতিহ্যবাহী  মুফতি পরিবার তাঁরই বংশধর।
৯৩। শাহ কামাল
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আতুয়াজান পরগনার তিলক শাহারপাড়ায় তাঁর মাজার অবস্থিত। তাঁহাকে লোকে শাহজালালের সঙ্গী বলে গন্য করে ও তিনি শাহজালালের সংস্পর্ষে আসতেও পারেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি শাহজালালের সঙ্গী জনৈক দরবেশ বুরহান উদ্দিন কেতানের বংশধর। তাঁহার পিতা জালাল উদ্দিন যিনি বুরহান উদ্দিন কেতানের পুত্র ছিলেন। শাহারপাড়া ও সিলেটের দরগা মহল্লায় তাঁর বংশধরগন বিদ্যমান।
৯৪। খাজা সলিম ওরফে তায়েফ সলিম
তাঁহার মাজার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোধরালী পরগনার সিলাম গ্রামে অবস্থিত।
৯৫। কামাল উদ্দিন
তাঁহার মাজার মৌলভী বাজার সদর উপজেলার চৌয়াল্লিশ পরগনার কামালপুর গ্রামে অবস্থিত। তদঞ্চলের চৌধূরীগন তাঁর বংশধর বলে  নিজেদেরকে পরিচয় দেন।
৯৬। সৈয়দ নসরুল্লাহ
তাঁহার সমাধির অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানা যায়না। লংলা পরগনার জয়পাশার খোন্দকার পরিবার তাঁর বংশধর বলিয়া দাবী করেন।
৯৭। সৈয়দ শাহ মোস্তফা
ইনি হজরত আলীর(রাঃ) বংশধর। তিনি বাগদাদ হতে শাহজালালের অনুগামী হন। তার সম্পর্কে অনেক আলৌকিক কাহিনীর খবর জানা যায়। কথিত আছে তিনি চুয়াল্লিশের রাজকন্যার পাণিগ্রহন করে তথায় বসতি স্থাপন করেন। তথাকার অনেক সৈয়দ পরিবার তাঁর বংশধর বলে দাবী করেন। সে পরিবারের অনেকে সিলেট শহরের কাজি ইলিয়াছে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। আসামের ভুতপূর্ব খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ এই পরিবারের লোক ছিলেন। তাঁর সমাধি মৌলভীবাজার শহরে অবস্থিত।
৯৮। শাহ হামিদ ফারুকী
তাঁহার সমাধি কুলাউড়া উপজেলার কানিহাটি পরগনার কাউকাফন গ্রামে অবস্থিত। তাঁহার বংশধরগন এখনও সেখানে রয়েছেন।
৯৯। শাহ হেলিম উদ্দিন কুরায়শী
ইনি চৌকির শাহ তাজউদ্দিন কুরায়শীর ভ্রাতা। তাহার সমাধি কুলাউড়া রেল স্টেশনের কয়েক মাইল দূরে কানাই নদীর তীরে অবস্থিত। মনসুর গ্রামের প্রসিদ্ধ চৌধুরী পরিবারসহ লংলার আর অনেক পরিবার তাঁর বংশধর বলে পরিচয় দেন।
১০০। শাহ হেলিম উদ্দিন নারনুলী
তিনি মধ্যপ্রদেশের নারনুলীর অধিবাসী ছিলেন। তিনি শাহজালালের সহিত সিলেটে আসিয়া কুলাউড়া উপজেলার কানিহটিতে ইসলাম প্রচার ও স্থায়ী বসত নির্মান করেন। হাজিপুরের চৌধূরী পরিবার তাঁর বংশধর বলে পরিচিত। ডিপোটি কমিশনার খান বাহাদুর তজম্মুল আলী চৌধূরী এই বংশের লোক ছিলেন। এই বংশে অনেক সুপ্রসিদ্ধ লোক জন্মগ্রহন করেন। মনুনদীর ভাঙ্গনের ফলে তাঁর সমাধি বিনষ্ট হয়ে গেছে।
১০১। আদম খাকী
আসামের করিমগঞ্জের বদরপুর রেলস্টেশনের বড় রাস্থার নিকট তাঁহার সমাধি রয়েছে।
১০২। সৈয়দ ইয়াকুব
তাঁর সমাধি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিনভাগ রেল-স্টেশনের নিকট পাতারিয়ায় অবস্থিত।
১০৩। গরীব খাকী
জুড়ী রেলস্টেশনের নিকটবর্তী বকতুরা গ্রামে তাঁর সমাধি রয়েছে। তাঁর বংশধরগন অজ্ঞাত।
১০৪। সৈয়দ জাহান ওরফে জাঁহা
তাঁহার সমাধি ভারতের প্রতাপগড়ের জঙ্গলে অবস্থিত।
১০৫। শাহ জিয়াউদ্দিন
তিনি দেওরাইল পরগনার বুন্দাশীল গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তার সমাধি নদীগর্বে বিলীন হয়ে গেছে। তথাকার কেহ কেহ তাঁর বংশধর বলে দাবী করেন।
১০৬। দরিয়া পীর
তাঁহার সমাধি বড়লেখা উপজেলার পাতারিয়া পরগনার চন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত।
১০৭। সৈয়দ বদরুউদ্দিন ওরফে শাহ বদর
আসামের করিমগজ্ঞের বদরপুর রেলস্টেশনের  নিকট তাঁহার সমাধি রয়েছে।
১০৮। শাহ সিকন্দর
তিনি করিমগঞ্জের দেওরাইল পরগনার বুন্দাশীল গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর সমাধি নদীগর্বে বিলীন হয়ে গেছে। তথাকার কতিপয় খন্দকার পরিবার তাঁর বংশধর বলে দাবী করেন।
১০৯। শেখ কালু
তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার পীরেরগায়ে অবস্থান করেন। তাঁর পুত্র শাহচান্দ চান্দভরাঙ্গ এসে বসবাস করেন। চান্দভরাঙ্গের চৌধূরীগন তাঁর বংশধর। তাঁহার কন্যার বংশের লোকজন পীরেরগাওয়ে বাস করেন। তাহারা সৈয়দ আহমদ ওরফে দামড়ীপীরের বংশধর। তাঁহার মাজার বিহার প্রদেশের আজিমাবাদ (পাটনা) শহরে অবস্থিত। দামড়ী পীরের সৈয়দ শাহ সোবহান উদ্দিন ও সৈয়দ শাহ বদর আলম নামক দুই ভ্রাতা ছিলেন। সৈয়দ শাহ সোবহান উদ্দিন দুলালী পরগনার ইউসুফপুর (ইসবপুর) গ্রামে চলে যান। তথায় তাঁর বংশধরগন আছেন। সৈয়দ শাহ বদর আলম পীরেরগাও চলে যান ও তথাকার পীরগন তাঁর বংশধর।
১১০। সৈয়দ শামসউদ্দিন
তাঁহান মাজার জগন্নাথপুর উপজেলার আতুয়াজান পরগনার সৈয়দপুর গ্রামে অবস্থিত। তিনি তিলক শাহারপাড়ার শাহ কামালের ভাগিনেয় ছিলেন। আওরঙ্গপুর পরগনার সৈয়দপুর হতে তথায় চলে যান। তিনি সৈয়দ বাহাউদ্দিনের বংশধর। কেহ কেহ তাঁকে আওরঙ্গপুরের শাহ তাজউদ্দিনের ভ্রাতা মনে করেন। তিনি শাহজালালের সঙ্গী সৈয়দ আলাউদ্দিনের বংশধর ছিলেন। “সুহলে ইয়ামেনী” গ্রন্থে তার নামের উল্লেখ নেই।
১১১। কাজী তাজউদ্দিন ওরফে শাহ তাজউদ্দিন কোরেশী
তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার চৌকী পরগনায় অবস্থান করেন। চৌকী পরগনা, দিনারপুর, কুরশা, বানিয়াচুঙ্গ ও লংলার অনেক পরিবার তাঁহার বংশধর বলে দাবি করেন। কুরশার খান বাহাদুর আজিজুর রহমান এবং চাউতলির খান বাহাদুর আলাউদ্দিন এই বংশের লোক ছিলেন।
১১২। ফতেহ গাজী
তিনি বেজুড়ায় গিয়ে মাধবপুর উপজেলার শাহজিবাজার রেলস্টেশনের নিকটবর্তী রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থান করেন। সেখানে তাহার চিল্লাখানা এখনও বিদ্যমান। সেই পাহাড়ের পাদদেশে মাহমুদ গাজী ও মসুদ গাজী নামক তাঁহার দুইজন ভাগিনার কবর রয়েছে।
১১৩। রুকন উদ্দিন আনসারী
ব্রক্ষনবাড়িয়া জেলার সরাইল পরগনার উপশাহজাদপুর নামক স্থানে তাঁর মাযার রয়েছে।
১১৪। জালাল উদ্দিন
তাঁর আস্থানা ও মাযার নন্দনপুর নোয়াখালী।
১১৫। সৈয়দ আহমদ গেছুদরাজ ওরফে কল্লা শহীদ
তিনি ত্রিপুরা ও নোয়াখালী জেলায় ইসলাম প্রচার করেন ও ধর্মপ্রচার করতে যেয়ে শত্রুদের হাতে শহীদ হন। তিনি শাহজালালের অতিপ্রিয় মুরিদ ছিলেন। তাহার পবিত্র মস্তক  ব্রক্ষনবাড়িয়া জেলার আখাউড়া জংশনের সন্নিকটে খড়মপুর গ্রামে এবং তার দেহ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্কপুরের নিকট কোটআন্দর নামক স্থানে দাফন করা হয়।
১১৬। শাহ কামাল ও ১১৭। শাহ জামাল
শাহজালালের এই দুই সঙ্গী কুমিল্লা হইতে সাত আট মাইল দূরে উটখাড়া নামক স্থানে ইসলাম প্রচার করে ছিলেন। কথিত আছে শাহজালালের কাছে ধর্মপ্রচারের অনুমতি চাইলে শিষ্যদ্বয়কে বলে দেন যেখানে বাহন উষ্ট্রদ্বয় খাড়া হবে, সেখানে যেন তারা ধর্মপ্রচারে নিয়োজিত হন। উটখাড়া প্রান্তে উট দুইটি দাড়িয়ে যায়। এইজন্য অধ্যবধি গ্রামটি উটখাড়া নামে পরিচিত।
১১৮। শেখ গরীব আফগানী ওরফে শাহ গাবরু
তিনি আফগানিস্থানের বেলুচিস্থান হতে শাহজালালের সহিত সিলেটে এসে বালাগজ্ঞ উপজেলার বানাইয়া হাওরের দক্ষিন পূর্বতটে একটি টেকের উপর আস্থানা স্থাপন করেন, যাহা তাঁর নাম অনুসারে পরবর্তীকালে গাবরুরটেক নামে অভিহিত হয়। এখানে তিনি ও  আর চারজন পীরের সমাধি রয়েছে, যাহা পাঁচপীরের মোকাম বলিয়া পরিচিত। তথায় এখনও তাঁর বংশধরগন বসবাস করছেন।
১১৯। শাহ সৈয়দ রুকনউদ্দিন
তিনি ধর্মপ্রচারে সিলেট হতে দক্ষিন দিকে রওয়ানা হলে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ইটা পরগনার যে স্থানে এসে তার কদম আটকে যায় সেখানে আস্থানা নির্মান করে ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। কদম আটকা হতে স্থানটির নাম কদমহাটায় পরিনত হয়। মৌলভীবাজার কুলাউড়া সড়কের পাশে কদমহাটা নামক স্থানে তাহার মাজার বিদ্যমান। কদমহাটার সৈয়দ পরিবার তাঁর বংশধর বলে পরিচিত।
১২০। শাহ পুতলা (ফাত্তাহ)
তাঁহার মাজার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর দক্ষিনভাগের মোকামবাজার সংলগ্ন কুড়ানদীর পারে অবস্থিত। তাঁহাকে শাহজালালের একজন সঙ্গীয় আউলিয়া মনে করা  হয়, যদিও  সুহলে ইয়ামেনীর ২৪০ জনের তালিকায় তাঁর নাম নেই। তাঁহার স্থাপিত মসজিদ ও গজার মাছে পূর্ন পুকুর এখনও বিদ্যমান।
১২১। কালা শাহ মজররদ
মৌলভীবাজার জেলার ভানুগাছ ও কানিহাটি পরগনাদ্বয়ের সন্ধিস্থল ভাদারদেউড় নামক স্থানে তাঁর মাজার অবস্থিত। তিনি অবিবাহিত, ফলে কোন বংশধর নেই।
১২২। শাহ রহিমউদ্দিন আনসারী
তাঁর মাজার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর পরগনার পূর্বভাগ গ্রামে অবস্থিত। তিনি সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারীর (রাঃ) বংশধর বলে ধারনা করা হয়। তাঁর বংশধরগন তথায় পীরাকি বৃত্তিতে রয়েছেন।
১২৩। হায়দার গাজী
তিনি শাহজালালের প্রিয় মুরিদ ছিলেন। একসময় সিলেটের শাসনকর্তা ছিলেন। সিলেটে সরকারী দায়িত্ব পালন শেষে সোঁনারগায়ে চলে যান। সেখানে তাঁর মাজার বিদ্যমান। তার প্রকৃত নাম নুরুল হুদা আবুল কেরামত সাইদি।
১২৪। পীর গোরা চাঁদ
তাহার প্রকৃত নাম সৈয়দ আব্বাস। তিনি হজরত শাহজালালের একজন প্রিয় মুরিদ ও খলিফা ছিলেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার “হাড়োয়া” নামক গ্রামে তাঁর মাযার অবস্থিত।
১২৫। শায়খ মধুশহীদ
সিলেট শহরের রিকাবীবাজারের পশ্চিমে কাজলশাহের মধুশহীদ মহল্লায় তাঁর মাযার অবস্থিত।
১২৬। শাহ সুলতান কমর উদ্দিন
তাঁর মাজার মদনপুর নেত্রকোণায় অবস্থিত।
১২৭। শাহ ইরানী
তাঁর মাজার হাবিশপুর বেলাব নরসিংদীতে অবস্থিত।
উপরের এই শ্রদ্ধাভাজন ওলীগনের উপর আল্লাহের রহমত বর্ষিত হউক। 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২০
  • ১২:২৯
  • ৫:০৪
  • ৭:১২
  • ৮:৩৬
  • ৫:৪২