ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের ওপর কোনো নতুন সামরিক হামলা চালায়, তবে পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কেবল ধ্বংস করার পাশাপাশি সেগুলো মেরামত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন, যাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে অচল থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে। তারা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে আর কোনো ‘লাল রেখা’ বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। এর আগে গত বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি সতর্ক করেছিলেন যে, দেশের অবকাঠামো আক্রান্ত হলে হরমুজ প্রণালির সাতটি প্রধান ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্যবস্তু করা হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের আগুন নিয়ে খেলা উচিত নয় এবং সমুদ্রতলের কেবলগুলো বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতল দিয়ে যাওয়া কেবলগুলোর মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়।
তবে হরমুজ প্রণালির এই কেবলগুলোর প্রভাব নিয়ে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মলডিন ভিন্ন মত দিয়েছেন।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ১ শতাংশেরও কম এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে, ফলে এ অঞ্চলে হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে হয়তো সীমিত থাকবে। তবে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে ইন্টারনেটের গতি হ্রাস পাওয়া, বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেনে স্থবিরতা, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে ইন্টারনেট ট্রাফিক বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর।
Leave a Reply