বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) প্রস্তাবিত চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৬ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (বিউবো ডিপ্রকৌস) এই অভিযোগ তুলে ধরে। এর আগে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংগঠনটির ব্যানারে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, তারা পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালার বিরোধী নন। বরং একটি বৈষম্যহীন, আইনসম্মত ও টেকসই প্রবিধানমালা প্রণয়নের পক্ষে তারা শুরু থেকেই অবস্থান নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তারা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সুপারিশ ও দলিলাদি উপস্থাপন করেছেন।
মাহমুদুল হাসান জানান, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সংগঠনটির মতে, স্থগিতাদেশ বহাল থাকলে দ্রুত সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য প্রবিধানমালা তৈরি করা সহজ হতো। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো সুরাহা না করেই জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিলসহ প্রবিধানমালাটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিউবো ডিপ্রকৌসের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, সহকারী প্রকৌশলী (এই) ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) পদের বিপরীতে উপসহকারী প্রকৌশলীদের জন্য ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির নীতি পুনর্বহাল করা। এছাড়া ১৯৯৬ সালের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসডিইকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এই ও এসডিইকে সমতুল্য পদ হিসেবে বিবেচনা করে অভিন্ন জ্যেষ্ঠতা তালিকা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় এসডিইকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র এবং অর্থ বিভাগের পৃষ্ঠাঙ্কিত সরকারি আদেশের (জিও) কপি প্রেরণের বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি তোলা হয়েছে। মাহমুদুল হাসান স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া এসডিই পদকে পৃথক ধাপ হিসেবে রাখা হলে প্রকৌশল প্রশাসনে বৈষম্য বাড়বে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হবে।
সংগঠনটি ফিরোজ কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সব দপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ সংরক্ষণ এবং প্রকৌশল প্রশাসনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং পিরামিড’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার আগে সব অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও পরামর্শের ওপর জোর দিয়েছে বিউবো ডিপ্রকৌস।
এই জটিলতা নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। এই কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি এবং বিউবো ডিপ্রকৌসের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বিশ্বাসী এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। তবে নীতিগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রতিকার গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ক্ষেত্রে বিষয়টি তফসিল থেকে বাদ দিয়ে ১৯৮২ সালের সার্ভিস রুল এবং ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করতে হবে।
Leave a Reply