রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুই মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে তাদের আটক করা হয়। রোববার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতির বাড়ির ছাদে এসে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে তারা একে একে হত্যা করে। গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) সম্পর্কে মামাতো ভাই এবং তারা মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা।
এর আগে গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র এলোমেলো এবং আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্তে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ করছে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম পুরো ভবনটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, কোতয়ালী থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। প্রতিটি মরদেহের গলায় রশি, গামছা বা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল এবং সেগুলো পচন ধরা অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হলেও বিস্তারিত তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও উদ্ধারকৃত মরদেহের অবস্থান নিম্নরূপ
প্রতিবেশীরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। তিনি অবসরের পর বাসায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি অবসরের মোটা অঙ্কের টাকা ব্যাংক থেকে তুলেছিলেন। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং তিন দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সাড়া না পেয়ে শ্যালিকা বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে গতকাল রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের ধারণা ছিল, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ‘ডাকাতির ঘটনা’ ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়িতে পড়ে ছিল চারটি লাশ: এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ৪ বছর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৩ দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে শিক্ষক গণপতি’র শ্যালিকা শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে আসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এলাকার কারও সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেইসঙ্গে ভবনের আনাচে-কানাচে চারদিকে আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
Leave a Reply