নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার পর বুধবার রাতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন খান জানান, স্থায়ী বহিষ্কারের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে থাকায় আপাতত তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল থেকে ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন করেন এবং গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতন করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বকুল মিয়ার এক নারী সহযোগী ভুক্তভোগীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে অন্য ব্যক্তিদের দিয়েও তাকে নির্যাতন করানো হয়। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই নির্যাতন অব্যাহত থাকে। গত ১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা পরিবারের নজরে আসে। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে ভুক্তভোগী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়ি ফিরে পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বলে।
ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply