ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে গলাপানিতে নেমে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করেছেন ময়মনসিংহ-২ আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। সংসদ সদস্যকে সরাসরি পানিতে নেমে কাজ করতে দেখে স্থানীয় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি কাকনী খালে গিয়ে পড়ত এবং সেখান থেকে দিয়ারা নদীতে নিষ্কাশিত হতো। তবে গত সাত-আট বছর ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে আটকে রাখায় পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী—এই নয়টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বাড়িঘর ও শত শত একর ফসলি জমি স্থায়ীভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল।
পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, বছরের পর বছর শত শত একর জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার হওয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানোর পর তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা আজ তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বাস্তবায়ন করলেন।
খালটি খনন করে কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে তা অত্র অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় খালগুলোই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্য চাষের মূল প্রাণশক্তি। কিন্তু বর্তমানে দখল ও কচুরিপানার কারণে সেগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি অনুদানের অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খাল সচল করা সম্ভব। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন যে বাধা রয়েছে, সেই জমি তিনি নিজ অর্থায়নে কিনে নেবেন। এরপর খালটি খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
Leave a Reply