ইরান, গাজা কিংবা লেবানন নয়, বরং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এখন ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। দেশটির সাবেক জেনারেল, গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এমনটাই মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মদদ ও পরিকল্পিত কৌশল।
ইসরাইলের সাবেক মেজর জেনারেল আইয়াল বেন-রুভেন সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে নিজের প্লাটুন হারানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই জেনারেল এখন ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তিত। তার মতে, বসতিস্থাপনকারীরা যা করছে, তা ইসরাইলের জন্য প্রকৃত হুমকি। তার সঙ্গে থাকা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এফ্রাইম স্নেহ এই পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে দেশটি একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার ফলে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাতের আড়ালে পশ্চিম তীরে সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, লুটপাট ও বাড়িঘর দখলের ঘটনা তীব্রতর হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে হাজারো হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং চলতি বছরেই ৩ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরাইলের ভেতরেও এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। জুনে ২০০-এর বেশি প্রভাবশালী ইসরাইলি একটি চিঠিতে পশ্চিম তীরে ‘ইহুদি সন্ত্রাস’ ও ‘জাতিগত নির্মূল’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দলের সদস্য ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার শুধু হামলা ঠেকাতে ব্যর্থই হয়নি, বরং এসব অবৈধ বসতি ও খামার গড়ে তুলতে সরকারি অর্থায়ন করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
আজরিয়েল নেভো, যিনি চারজন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি বলেন, তার দেখা কোনো প্রধানমন্ত্রীই এমন পরিস্থিতি ঘটতে দিতেন না। সাবেক সেনাপ্রধান মোশে ইয়ালন এই পরিস্থিতিকে ‘উল্টো মাইন ক্যাম্পফ’ বা ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনার পর নেতানিয়াহু একে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের দায়িত্ব সব বাসিন্দাকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে সাবেক জেনারেলরা মনে করেন, এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণহীন ও নির্বিচার, যা ইসরাইলের ভাবমূর্তি ও সামরিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করছে। ৭৮ বছর বয়সি সাবেক বিমানবাহিনী জেনারেল আসাফ আগমন, যার নাতি গত বছর লেবাননে নিহত হয়েছেন, তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখানে যা করছে তাতে তিনি লজ্জিত এবং এই লড়াইয়ে ইসরাইল নৈতিকভাবে হেরে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পেছনে সরকারের সমর্থন ও নিরাপত্তা কাঠামোর একাংশের সহযোগিতা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, মসজিদ ও গ্রামে হামলা চালাচ্ছেন, আগুন দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের জমি ও গবাদিপশু দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেখেছেন লুট হওয়া একটি স্কুলের ধ্বংসাবশেষও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তিনি পশ্চিম তীরে একটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধেও ইসরাইলের স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন সেই সাবেক জেনারেলই বলছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ে তার ধারণা বদলে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হন।
Leave a Reply