এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে এবার পূর্ণ শক্তির দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের অভিষেক আসরেই সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে এবার কোনো ছাড় দিতে নারাজ নির্বাচকরা। তাই দ্বিতীয় সারির দল নয়, বরং জাতীয় দলের নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। এই দলে সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন তাওহিদ হৃদয়।
দলের সবচেয়ে বড় চমক নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন। শান্ত সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। এরপর টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিলেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তাকে বিবেচনা করা হয়নি। তবে এশিয়ান গেমস দিয়েই তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফিরছেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, শান্তর সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তাকে ফেরানো হয়েছে। সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৩৫৫ রান করেছিলেন শান্ত, যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরিও ছিল।
হাসান মাহমুদের ফেরা নিয়েও আশাবাদী নির্বাচকরা। চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই পেসার সম্প্রতি লাল বলের ক্রিকেটে ভালো ছন্দে আছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন তিনি। হাবিবুল বাশার বলেন, তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতিতে হাসান মাহমুদকে দলে নেওয়া জরুরি ছিল, কারণ তিনি এখন তিন ফরম্যাটেই খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলী, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে চোটের কারণে নাহিদ রানা ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন দলের বাইরে রয়েছেন। লিটনের অন্তর্ভুক্তি ও চোট থেকে ফেরার কারণে উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানকে এই দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।
এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তবে র্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে, যা ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘বি’র চ্যাম্পিয়ন দল, যারা হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমানের মধ্যকার লড়াই থেকে উঠে আসবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আসরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্বাচকরা। হাবিবুল বাশার বলেন, ২০২৮ সালের বিশ্বকাপের আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ কম। তাই কোনো খেলোয়াড়কে যাচাই করার থাকলে এটাই সেরা সময়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, আমরা কেবল অংশগ্রহণের জন্য যাচ্ছি না, আমাদের লক্ষ্য সোনার পদক জয়। এজন্যই মূল দল বেছে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যরা কী করছে তা আমাদের ভাবনার বিষয় নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সব মিলিয়ে জাপানে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার পরিষ্কার, ২০১০ সালের সোনার পদক আবারও ফিরিয়ে আনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শান্তর প্রত্যাবর্তনই অবশ্য দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঝের সময়ে শান্ত টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নেতৃত্বও দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু টি-টোয়েন্টির হিসাবের খাতা তাঁর জন্য বন্ধই ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শান্তকে ফেরানোর পেছনে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও দেখছেন নির্বাচকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের বলেন, ‘আমরা আসলে সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপিএলের পর খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটা ব্যাপার ছিল, টি-টোয়েন্টি দলে কিছু নতুন খেলোয়াড় দেখার দরকার ছিল।
Leave a Reply