আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতদিন এই তেল ১৯৯ টাকায় বিক্রি হয়ে আসছিল। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে এই নতুন মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান সাংবাদিকদের জানান, আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ করলেও, ভোক্তা স্বার্থ ও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয় করেছে।
বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রমজানের আগে তেলের দাম আবারও বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি সে সময়ের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন ও চিনির দাম বাড়ার পর ভোজ্যতেলের এই মূল্য সমন্বয় মূল্যস্ফীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির বড় কোনো কারণ দেখছে না এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমিত পরিসরে এই সমন্বয় করা হয়েছে, যা বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া সয়াবিন তেলের আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেলেও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির হার ৩১০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কেন কম, ব্যাখ্যা দিলো আদানি।
Leave a Reply