ময়মনসিংহের ত্রিশালে আর্তমানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ত্রিশাল শাখা অফিস প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এক বৃহৎ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৫ শতাধিক অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী পেয়ে উপকৃত হন।
এক ছাদের নিচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা
সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্প প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ক্যাম্পে চক্ষু, মেডিসিন, গাইনী, চর্ম ও যৌনরোগ, শিশু এবং সার্জারি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা প্রদান করেন।
চিকিৎসক দলের মধ্যে ছিলেন—
ডা. বুশরা নুর তুসি, ডা. রিয়াজ মাহমুদ হুদা, ডা. ফারজানা সুলতানা, ডা. মো. মুহিব সরকার, ডা. মো. সুমন রহমান, ডা. মো. ইশতিয়াক আহমেদ, ডা. জীম সাগর, ডা. মহিউদ্দিন সুমন অনি এবং ডা. ইসমাইল হোসেন।
পিএমকের সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. নবাব আলী এ মানবিক কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন,
“পিএমকে কেবল ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন, ঔষধ, চোখের ড্রপ ও চশমা বিতরণ করা হচ্ছে।”
শাখা ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন এবং হিসাবরক্ষক মো. ইসাহাক আলম জানান, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পিএমকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং গর্ভবতী মায়েদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। তারা পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার এবং উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেলথ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের দিকনির্দেশনায় সফল আয়োজনের জন্য তাকেও ধন্যবাদ জানান সেবাগ্রহীতারা।
উপকারভোগী: ৫০০+ দরিদ্র মানুষ
সেবাসমূহ: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ, বিনামূল্যে ঔষধ, চশমা ও আই ড্রপ
লক্ষ্য: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া
ত্রিশালের এই আয়োজন প্রমাণ করে—সদিচ্ছা ও পরিকল্পনা থাকলে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
Leave a Reply