ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ‘জিয়া থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এই কর্মসূচিটি আয়োজন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। শনিবার বেলা ৩টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মো. শরিফুল ইসলাম খান। সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মো. খান বিটুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আরেফিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
বক্তারা তাদের আলোচনায় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অর্জনের আন্দোলনের পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গণতন্ত্রের ইতিহাস এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা যে সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরেন, তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মাননা প্রদান পর্ব। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কারানির্যাতিত জেলার পাঁচ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি ভোটাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক বিষয়ে জনমত গড়ে তোলাই তাদের এই বিশেষ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পিপি মো. সফিকুল ইসলাম। রাজনৈতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
Leave a Reply