বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলায় দলটি নানা চড়াই-উতরাই ও সুসময়-দুঃসময়ের সাক্ষী হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের বর্তমান অবস্থান, রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপির সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই নানা চ্যালেঞ্জ আসে। এসব চ্যালেঞ্জ ঠাণ্ডা মাথায় ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করাই এখন দলের প্রধান কাজ। তিনি উদাহরণ হিসেবে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশেও। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গ্যাসের চাপ ও রান্নার চুলা জ্বলা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।
বিএনপির ৪৮ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্পর্কে রিজভী বলেন, দলটি কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নের ওপর তিনি জোর দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে অনার্স বা ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি এবং হতদরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলো মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার জিয়াউর রহমানের দর্শন—বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের আদর্শ ও নীতি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছেন। খালেদা জিয়াকে ছাড়াই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা সেই শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে রিজভী বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের চেয়ে সংশোধনের পক্ষে। যেকোনো গঠনমূলক আলোচনা পার্লামেন্টে হওয়া উচিত। তিনি জুলাই সনদের বিষয়ে বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে সেখানে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতো কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা জুলাইয়ের স্পিরিট হতে পারে না; বরং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে, রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, তারা যেন কোনো অনৈতিক প্রলোভনের সঙ্গে নিজেদের জড়ান না। সরকারের কোনো কর্মসূচিতে অনিয়ম দেখলে তা দ্রুত কেন্দ্রে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জন্মলগ্নের প্রত্যয় ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক দলের ইতিাহাসে বিএনপি কেবল স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রম নয়, প্রবলভাবে জননন্দিতও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হতে হয়নি জনবিস্ফোরণ কিংবা গণ অভ্যুত্থানের মুখোমুখি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতাসীন বিএনপি কীভাবে দেখছে বর্তমানের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বয়ান ও বন্দোবস্তকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর আলাপে উঠে এসেছে তার আদ্যপান্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও কিছু বিষয় আমাদের সাধ্যের বাইরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বহনকারী অনেক জাহাজের চলাচল বন্ধ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে একটি সংকট তৈরি হয়েছে, যেটি বৈশ্বিক।
Leave a Reply