মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি যুগান্তকারী তেল চুক্তিতে উপনীত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ লাভ করবে। ট্রাম্প এই চুক্তিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেলচুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। এটি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রুবিও আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমেই এই স্থিতিশীলতা ও কম দামে তেল পাওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
চুক্তিটি বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিকোলা মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে এবং রদ্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই চুক্তি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে।
তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং অতীতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ইতিহাসের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময়ও শেভরন ভেনেজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিল। গত জুলাই মাসে শেভরন জানায়, তারা দৈনিক ২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এই উৎপাদন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কৌশল বা বিনিয়োগের রূপরেখা সম্পর্কে রুবিও এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র চাপ ও কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শর্ত ছিল, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা কখনোই গোপন করেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প লেখেন, ‘এ লেনদেন ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এরই মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে!’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে আমেরিকা ফার্স্ট নীতির সাফল্য বয়ে আনছে, এ চুক্তি তার প্রমাণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নীতি আমাদের গোলার্ধের ভেতরেই স্থিতিশীল তেল মজুত ও কম দামে তেল পাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ভেতর গ্যাসের দাম কমিয়ে আনছে।’।
Leave a Reply