বরিশাল আদালত চত্বরে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জুডিশিয়াল ভবনের প্রধান ফটকের কাছে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনমনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ জানান, বাইরে থেকে কোনো বস্তু ছুঁড়ে মারার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজে নিক্ষেপকারীকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এটি ককটেল সদৃশ বস্তু বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, বিস্ফোরণস্থল থেকে কাঁচের গুঁড়া, প্লাস্টিক ও বারুদের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ ও বিস্ফোরকের ধরন নিশ্চিত হতে এসব আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিধ্বংসী আলামত পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, আদালতের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা ও দায়রা জজদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনার পরপরই আদালত এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা আতঙ্ক নিয়ে প্রবেশ করছেন। বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন আহমেদ পান্না এই ঘটনার পেছনে অগণতান্ত্রিক শক্তির হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে আইনজীবী একেএম মীর জাহিদুল কবির মনে করছেন, ফ্যাসিবাদী দোসররা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এই নাশকতা চালিয়েছে।
আগামী ১৬ আগস্ট আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বরিশাল সফরের কথা রয়েছে। মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কোনো মহল পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়েও জনমনে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ আগস্ট বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল মৌ গ্রামে একটি আইইডি বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আদালত চত্বরের এই ঘটনাটি সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
সালেহ বলেন, ‘বস্তুটি বাইরে থেকে কেউ ছুঁড়ে মারে।
এতে কেউ হতাহত না হলেও বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
Leave a Reply