অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনটিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। মালয়েশিয়ায় এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বীরত্বগাথা ও বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসিদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এর বাইরে অন্য কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা বাস্তবিক মনে হচ্ছে না। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আমরা কখনোই পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করিনি, বরং সংস্কার ও বিচারের নিশ্চয়তা পেলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলেও আমাদের আপত্তি নেই।’
বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির গুঞ্জনকে তিনি ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ও ‘গুজব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনের চেয়ে রাষ্ট্র সংস্কারই তাদের মূল এজেন্ডা। গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরই কেবল নির্বাচন নিয়ে ভাবা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মাদ। এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আলমগীর চৌধুরী আকাশ।
এর আগের দিন শনিবার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাহিদ ইসলাম কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন না এলে জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন আনে, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রের কাঠামো বদলায়। আমরা নতুন সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চাই।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ সংস্কারের পথে এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন তা অনিশ্চয়তার মুখে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান পূর্বের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে ভিন্ন এবং এর মাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে।
তিন দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে আজ রাতে নাহিদ ইসলামের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এরপর আগামী মঙ্গলবার তিনি সাতজন নেতার সফরসঙ্গী নিয়ে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
এদিকে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
Leave a Reply