ফেনীর নুসরাত জাহান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন। আলোচিত এই মামলার শুনানি গত ২০ আগস্ট শেষ হয়। এর আগে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই থেকে মোট ১৭ কার্যদিবস ধরে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রায় ঘোষণার দিনটিকে কেন্দ্র করে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহানের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম জানিয়েছেন, মামলার বাদী ও নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে দুজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকলেও, গতকাল রোববার থেকে সেখানে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই ন্যায়বিচার চাই। নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে—এমন প্রত্যাশা করছি।’ তিনি আরও জানান, বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় তারা সন্তুষ্ট হলেও, বিভিন্ন প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের বাইরে বের হতে হয় বলে তারা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হন। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। শুরুতে অগ্নিসন্ত্রাসের মামলা হলেও পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর এই মামলায় রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুক তৈরি করা হয় এবং আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
Leave a Reply