প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির (৩০০*) মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ৪৫০ বলের দীর্ঘ ও ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন তার ব্যাটিং সক্ষমতার গভীরতা। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দেন তিনি।
পচেফস্ট্রুমের এই ভেন্যুটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত আবেগের ও ঐতিহাসিক। ২০২০ সালে এই মাঠেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বজয়ের মুকুট পরেছিল। ছয় বছর পর সেই একই মাঠে দাঁড়িয়ে হৃদয় ৩০০ রানের অলৌকিক ইনিংস খেলে নিজের নামকে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নিলেন। বগুড়ার এই কৃতী সন্তান তার এই ইনিংসের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে দেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
এই ইনিংসটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দীর্ঘ ২৩ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটির বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত ‘এ’ দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান হিসেবে গণ্য হতো। হৃদয় ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বিদ্যুৎকে টপকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান।
তামিম ইকবাল ও রাকিবুল হাসানের ট্রিপল সেঞ্চুরিগুলো ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের অংশ, যা দেশের মাটিতে খেলা হয়েছিল। সেই তুলনায় হৃদয়ের এই অর্জন বিদেশের মাটিতে হওয়ায় এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনেক বেশি। প্রতিকূল কন্ডিশনে এমন ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। পচেফস্ট্রুমের এই মাঠটি এখন থেকে হৃদয়ের এই মহাকাব্যিক ইনিংসের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়।
Leave a Reply