কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়েছিল। এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় গত ২১শে এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০২৩ সালে অবসরে যান এবং ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তদন্তের স্বার্থে গত ৬ই এপ্রিল পিবিআই সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও আটকের লক্ষ্যে পিবিআই গত জুনে আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ইন্টারপোল এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এর ফলে এখন আন্তর্জাতিকভাবে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আইনি প্রক্রিয়া সহজতর হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল ও ১২ই জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা সন্দেহে সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই রেড নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
Leave a Reply