জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন তিনি। এছাড়া মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা আইরিন খান বর্তমানে জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছেন।
আইরিন খান বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। মানবাধিকারের লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
Leave a Reply