বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী ঢাকায় আসেন। আবার মধ্যরাতে বিদেশ থেকে ফেরার পর অনেকে ঢাকায় অবস্থানের জায়গা খুঁজে পান না। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাবে তাদের বড় একটি অংশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের ব্যয়বহুল হোটেলে রাত কাটান, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।
অথচ এসব প্রবাসী কর্মীর জন্য মাত্র ২০০ টাকায় থাকা ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের বিশেষ সুবিধা নিয়ে খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকার লঞ্জনীপাড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয় ২০২২ সালের ১৮ মার্চ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সেন্টারে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ৫০ জন একসঙ্গে থাকার সুযোগ রয়েছে।
সেন্টারটি উদ্বোধনের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রচারণার অভাবে এটি প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, উদ্বোধনের পর থেকে অধিকাংশ সময় সেন্টারের ৯৯ শতাংশ শয্যাই অব্যবহৃত থাকে। সবশেষ গত জুনে ৮৪ জন এবং জুলাই মাসে ৮০ জন প্রবাসী এখানে অবস্থান করেছেন। প্রতিদিন কয়েক হাজার প্রবাসী কর্মী ঢাকায় আসা-যাওয়া করলেও সেন্টারের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টারটি নিরিবিলি পরিবেশে নির্মিত এবং এর কক্ষগুলো পরিচ্ছন্ন। এখানে বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত তথ্যও দেওয়া হয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান জানান, প্রবাসী কর্মীদের জন্যই এই সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবাসী লাউঞ্জে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া মিলছে না।
প্রবাসীদের অভিযোগ, সেন্টারটি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেকে সেখানে যেতে আগ্রহী হন না। মোজাম্মেল হক নামের এক প্রবাসী জানান, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে এখানে এসেছেন। তার মতে, সেন্টারটি বিমানবন্দর সংলগ্ন হলে প্রবাসীরা শতভাগ সেবা নিতে পারতেন।
সেন্টারের যাতায়াত সুবিধার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘমেয়াদী রাস্তা সংস্কার কাজ। বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। মো. সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রি বাস সার্ভিসটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অটোরিকশা দিয়েও ঠিকমতো যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২৮ আগস্ট সৌদি আরবগামী যাত্রী তোফাজ্জল হোসেন জানান, ফ্লাইটের ২৪ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে এসে তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। টার্মিনালে বসার জায়গা না থাকায় তাকে লাগেজ নিয়ে ক্যানপি-২ এর সামনে সময় কাটাতে হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো সেন্টারের কথা তিনি আগে শোনেননি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকার তীব্র যানজট ও ফ্লাইটের সময়ের চাপ বিবেচনায় ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ। তবে যথাযথ প্রচারণার অভাব এবং যাতায়াত ব্যবস্থার জটিলতা দূর না হলে এর সুফল থেকে অধিকাংশ প্রবাসী বঞ্চিতই থেকে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতে স্বাভাবিক সময়ে সড়কপথে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতেই এটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তারা বিমানবন্দরের আশপাশের হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকছেন অথবা টার্মিনালে বসেই দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আশার দিক হচ্ছে, আগের তুলনায় সেন্টারে প্রবাসীর যাতায়াত বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবাসনের কক্ষগুলো পরিচ্ছন্ন, প্রতিটি কক্ষে তিন থেকে চারটি শয্যা রয়েছে।
Leave a Reply