1. iamparves@gmail.com : admin :
  2. najmulhasan7741@gmail.com : Najmul Hasan : Najmul Hasan
  3. janathatv19@gmail.com : Shohag Khan : Shohag Khan
  4. backup@wordpress.com : wp-backup :
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশুর নিরাপদ জন্ম

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রসবের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে গভীর রাত কিংবা ভোরের আলো ফোটার আগেই ছুটে যেতে হয় তাঁদের কাছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে মায়েদের পরম আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন নাজমা আক্তার ও শিরিনা চৌধুরী। তাঁদের নিবিড় সেবায় পৃথিবীর আলো দেখেছে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি নবজাতক। নাজমা আক্তার বাঞ্ছারামপুরের দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে এবং শিরিনা চৌধুরী বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই সেবা দিয়ে আসছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ বছরে নাজমা আক্তার প্রায় তিন হাজার এবং দীর্ঘ ৩৪ বছরের কর্মজীবনে শিরিনা চৌধুরী সাত হাজার ৫০০-এর বেশি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করেছেন। দুই উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাজমা আক্তার ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও সুনাম বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর ছাড়াও নবীনগর, নরসিংদী ও কুমিল্লার হোমনা থেকেও প্রসূতিরা তাঁর কাছে সেবা নিতে আসেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্যমতে, গত সাড়ে পাঁচ বছরে নাজমার তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের হার সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তাঁর হাতে ২ হাজার ৪৪১টি শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই তিনি ২৮০ জন প্রসূতিকে সহায়তা করেছেন। নাজমা জানান, এক দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রসব করানোর রেকর্ড রয়েছে তাঁর। এ পর্যন্ত ১৫ জোড়া যমজ শিশুর জন্মও হয়েছে তাঁর তত্ত্বাবধানে। কাজের চাপে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেও, একটি সুস্থ নবজাতকের কান্না সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় বলে জানান তিনি। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করছেন এই স্বাস্থ্যকর্মী।

পেশাগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত টানা উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নির্বাচিত হয়েছেন নাজমা। ২০২৪ ও ২০২৫ সালসহ চলতি বছরে তিনি জেলার মধ্যেও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আনসার আলী জানান, নাজমার সুনাম শুধু ইউনিয়নে নয়, পুরো উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রোগীদের সঙ্গে তাঁর অমায়িক ব্যবহার ও সেবার মান সবাইকে মুগ্ধ করে।

অন্যদিকে, বিজয়নগরের পাহাড়পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিরিনা চৌধুরী ১৯৯২ সালের জুন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাসে গড়ে ৮-৯টি এবং ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫-৩০টি প্রসব করিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর অনলাইনে হিসাব সংরক্ষণ শুরু করার পর দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজয়নগরের ১০টি কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫৫২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৩৯টিই শিরিনা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মাসে ৪৭টি প্রসব করিয়ে তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে শিরিনা চৌধুরী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বহুবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি উপজেলার শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং তাঁর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ধরে রেখেছে। ২০১৫ সালে তিনি জেলায় শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার অর্জন করেন। শিরিনা জানান, শুরুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসূতিদের সেবা দিতে হতো, কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষকে সচেতন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করা সম্ভব হয়েছে।

নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে নাজমা ও শিরিনা দুজনই অত্যন্ত সতর্ক। কোনো প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাঁরা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। স্বাভাবিক প্রসবের সময়ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

এই দুই স্বাস্থ্যকর্মীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাভাবিক প্রসবে শিরিনা ও নাজমা জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়া স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম তাঁদের এই অবদানকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের এই ধারা অব্যাহত থাকা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়ে তাঁর তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৪৪১ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১৬ জুন দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নাজমার কক্ষে রোগীর ভিড়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে কখনো গভীর রাতে, কখনো ভোরের আগে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশের কক্ষে প্রসবব্যথা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক প্রসূতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের দিন বিকেল থেকে পরবর্তী ১৭ ঘণ্টায় পাঁচটি স্বাভাবিক প্রসব করান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালে মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আমার দক্ষতা বাড়ে এবং মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পায়।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দরিয়াদৌলত গ্রামের আনসার আলী গত ১৬ জুন ছেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *